আন্তর্জাতিক 

ফ্রান্সের স্কুল ছাত্রদের আন্দোলনের জেরে প্যারিস সহ বেশ কয়েকটি শহরে কার্ফু জারি! আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করার অপরাধে গ্রেফতার ২৪০০

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ফ্রান্সের স্কুলগুলিতে মাত্র ২৯০০ শিক্ষক পদ ফাঁকা রয়েছে। কেন এক শতাংশ শিক্ষক পদ ফাঁকা রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত মানে করার দাবিতে সেদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়া রাও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ফলে ফ্রান্সের পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়ে পড়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমগ্র ফ্রান্স কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক শহরে আংশিক কার্ফু ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফরাসি প্রশাসন। হিংসা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের অন্দরেও প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।

পুরো প্যারিস জুড়ে সম্পূর্ণ কার্ফুর (ব্ল্যাঙ্কেট কার্ফু) বদলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তাঁর নির্দেশে সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত প্যারিসের ‘প্লাস দে লা রিপ্যুবলিক’ এবং ‘লে আল’ শপিং এলাকায় কার্ফু জারি করে পুলিশ। মানুষ ও সম্পত্তি রক্ষায় রাত ৮টার পর থেকে রাজধানীতে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ফ্রান্সের লিল শহরে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এবং নিস শহরেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের কার্ফু জারি হয়েছে। সোমবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্সেই শহরেও বিক্ষোভ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করে প্রশাসন।

সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেই-সহ একাধিক শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ২,৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ৩,০০০ দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুঠপাট চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘ফেডারেশন অফ ট্রেড অ্যান্ড রিটেল’। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্যারিসের একাধিক বিলাসবহুল বুটিক এবং মার্সেই শহরের ‘অলিম্পিক দে মার্সেই’ ফুটবল ক্লাবের অফিশিয়াল স্টোরও রয়েছে। হিংসার আঁচ গিয়ে পড়ে সরকারি ভবনেও । মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ় শহরে উনিশ শতকে তৈরি ঐতিহাসিক পুরভবনে (সিটি হল) আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। আগুনে ছাদ ধসে পড়ে ভবনটি প্রায় ধ্বংসের মুখে।

হিংসা দমনে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাকরঁ তাঁর পদত্যাগপত্র সরাসরি খারিজ করে তাঁকে গোয়েন্দা ও পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ হিংসা এড়াতে দ্রুত পুলিশের রণকৌশলে বদল আনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামেনি। সোমবার প্যারিসের বিশ্বখ্যাত ল্যুভর মিউজ়িয়ামের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্র সংগঠনগুলি, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি খোলা সম্ভব হয়নি। আগামী ৫ নভেম্বর নতুন করে ধর্মঘট ও পদযাত্রার ডাক দিয়েছে ফরাসি শ্রমিক সংগঠনগুলি। এর পাশাপাশি ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেশ জুড়ে জমায়েতের পরিকল্পনা করছেন আন্দোলনকারীরা।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ